একটা আর এ এস প্রজেক্ট এর দাম কত?

একটা আর এ এস প্রজেক্ট এর দাম কত?
May 25, 2021 No Comments Aquaculture Engineering (RAS) in Bangladesh cadsonbd

আজ এই বিষয়ে কিছু লেখা খুব জরুরী মনে করছি। বিশেষ করে বাংলাদেশে যারা প্রজেক্ট করতে আগ্রহী তাদের উদ্দ্যেশে এই লেখা।

কেউ কেউ বলে আপনার প্রজেক্ট এর খরচ অনেক বেশী। আবার কেউ বলে আপনার অফার সবার চাইতে কম। এখন এই যে কম বা বেশী বলার কারন কি? আমরা কোনটা বিশ্বাস করবো? আমরা বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কখন করি? যখন আমরা কিছু জানি না তখন আমরা একটা পক্ষ নেই । কিন্তু যদি আমরা জানতে পারি তাহলে আর আমাদের বিশ্বাস অবিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই। অন্য দিকে একটা জিনিস কমদামী, বা দামী তখন হয় যখন আমরা কোন কিছুর সাথে সেটা তুলনা করি। যখন আপনি বেশী দামী কিছুর সাথে তুলনা করবেন তখন সেটা কম দামী হবে। কমদামী কিছুর সাথে তুলনা করলে বেশী দামী হবে। তাহলে বিষয় গুলি আমাদের ভাল করে জানা দরকার ।

প্রথমেই বলি কেন আমরা দেশে এইসব ইকুইপমেন্ট তৈরীর চিন্তা করলাম। কারন আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি যে, যে কোন মেশিনারি দেশে তৈরী করলে ৩০% থেকে ৪০% দাম কমে কোন কোন ক্ষেত্রে ৫০% কমে যায়। তার উপর এই সকল মেশিনারি বা ইকুইপমেন্ট এত ভারী এবং বড় যা হালকা নরম মেটেরিয়ালের তৈরী করা সত্বেও। তাই এগুলো হ্যান্ডেলিং খুব একটা সহজ নয়। আমাদের প্রজেক্টের ইউভি সেট সুন্দর অক্ষত অবস্থায় প্রজেক্টে এ এসেছে। বের করে দেখি সব ঠিকঠাক বাইরে থেকে কারন এস এস বডি কিছু হবার নয়। কিন্তু ভিতরে আটটা টিউব এর একটা ভাল বাকি সব টুকরো টুকরো। কিছুদিন আগে আমাদের এক বিদেশি কন্সালটেন্ট প্রজেক্ট চালু করার পর তার চাইনিজ ড্রাম ফিল্টারের সেফ্ট ভেঙ্গে পরে গেছে। সেদিন একটি প্রজেক্ট এ দেখলাম তার অক্সিজেন জেনারেটর পানি গিয়ে সব জিওলাইট ভর্তা হয়ে ব্লক গেছে। কোন বাতাসই বের হয়না অক্সিজেন তো দূরের কথা। অনেকেরই এই চায়না অক্সিজেন জেনারেটর তিন থেকে ছয়মাস এর বেশী টেকেনি। বিভিন্ন কারনে। তার মধ্যে মূল কারন নিজেরা প্রজেক্ট সেটআপ করা। যাই হোক আসল কথায় আসি।

ধরুন আপনি চায়না থেকে একটি প্রজেক্ট এর ইকুইপমেন্ট আনবেন। তারা আপনাকে ১০০টন পানির প্রজেক্ট দেবে ৫০টন ফ্লো দিয়ে। কারন রাস ইকুইপমেন্ট এর দাম যদি আপনি বিভিন্ন সাইজের সাথে তুলনা করেন তবে বুঝতে পারবেন। ফ্লো কম হবার কারনে যখন আপনি সমস্যায় পরবেন আর তাদের সাহায্য  চাইবেন, তখন তারা বলবে ঘনত্ব কমান বা ৩০ ভাগ পানি পরিবর্তন করেন। এটা আপনি বুঝবেন প্রজেক্ট করে যখন মাছ চাষ শুরু করবেন তখন। ৫০ টন একটা চায়না ড্রাম ফিল্টারের দাম ৪,৫০,০০০ টাকা তাদের ফেক্টরির গেটে থাকা অবস্থায় দাম। বুঝার চেষ্টা করেন। এখানে সবাই ভুলটা করে। এই জিনিষটা আপনি যখন কিনছেন তখন দামটা এমন দেখা গেলেও যখন আপনার প্রজেক্ট এ এসে ঢুকলো তখন হিসেব করলে দেখবেন আপনি খরচ করেছেন ৬,৭৫,০০০টাকা। এখন ১০০টন ফিল্টারের দাম ওদের ফেক্টরির গেটে কত? ১৭,০০,০০০টাকা। তাহলে আপনাকে যদি ১০০টন প্রতি ঘন্টায় ফ্লো রেট দিতে হয় তবে সে আপনাকে ১৭ লক্ষ টাকা দামের ড্রামফিল্টার অফার করবে। যেটটা আনতে আপনার খরচ দাড়াবে ২৫.৫ লক্ষ টাকা। এখন আমরা যদি এই ১০০ টন ফ্লো-রেটের ড্রাম ফিল্টার ফুল এস এস দিয়ে তৈরী মাত্র ৫ লক্ষ টাকায় দেই তবে কিভাবে সেটা চায়নাদের থেকে বেশী হয়? কারন তারা দেখছেন চায়না দিয়েছে ৪.৫ আর আমরা দিয়েছি ৫ লক্ষ । যারা এই হিসাব বোঝে তারা বলে ওদের দাম আপনার থেকে ৫গুন বেশী।  এমন সব কিছু নিয়ে লিখতে গেলে লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে তাই যত টুকু না বললে সবাই বুঝবে না সেটুকু বলবো।

এবার আসি প্রজেক্ট অফার বিষয়ে। ধরেন আপনি ৫০% ফ্লে-রেট দিয়ে একটি প্রজেক্ট এর অফার নিলেন চায়না থেকে। ধরি সেটা তাদের ফেক্টরী মূল্য ৬০লক্ষ টাকা। সেখানে ডিজাইন ও একজন ইঞ্জিনিয়ারের খরচ দিন প্রতি ১৫০/২০০ ডলার আছে। পুরো প্রজেক্ট এর কাজ শেষ করতে ৬ থেকে আটজন লোক আপনাকে দিতে হবে ঐ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে একমাসের কাজ যখন তিন মাসে গিয়ে দাড়াবে তখন দেখবেন ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা লোকাল লোক আর বিদেশি মিলে ১০লক্ষ্য খরচ করে ফেলেছেন। পাইপ ফিটিংস ও ইলেকট্রিক্যাল মালামাল আরো ১০ থেকে ১৫ লক্ষ্য খরচ হবে অটোমেশন বাদে। ৬০ লক্ষ টাকার মালামাল আনতে ৩০ লক্ষ টাকা পরে যাবে। সব মিলিয়ে ১ কোটি ২০ পরে যাবে। কিন্তু যদি এই প্রজেক্ট ১০০টন ফ্লো-রেটের হয় তবে ২.৫ কোটি পরবে চায়না মালামাল দিয়ে। সেখানে আমরা যখন পুরো প্রজেক্ট চালু করার সহ অফার করি এই ১ কোটি ২০ লক্ষ  টাকা তখন ৬০ লক্ষ টাকার চায়না ফেক্টরীর দামের সাথে তুলনা করে বলা হয় আমাদের দাম বেশী।

অথচ আমরা একবছর ফ্রি সার্ভিস এবং মাছ চাষের কারিগরি সহায়তা প্রদানের অংগিকার করি যাতে আপনারা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।

এছাড়াও আমরা যে ডিজাইন অফার করি সেখানে আরো অনেক বেশী প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এর সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা থাকে যেখানে আলাদা ছোট টেংকে কম ফ্লো তে রেনু বা ছোট পোনা বড় করে বড় টেংকে দেয়া যায় যেটা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে খুব জরুরি। তা না হলে শুরুতেই মাছ মারা যায় অতিরিক্ত ফ্লো এবং এন্টিবায়োটিক দেয়া দুর্বল পোনা হবার কারনে।

Disc Filter for fine solid removal

আমাদের অনেক বেশী সিকুরিটি ও ব্যাকআপ সিস্টেমের কারনে অনেক অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করতে হয়। ড্রাম ফিল্টারে সলিড পুরোপুরি রিমুভ হয় না তাই ডিক্স ফিল্টার ব্যাবহার করা হয় যা অনেক দামী। কিন্তু তার পরও সঠিক ভাবে হিসেব করলে আমাদের প্রজেক্টে এ সুবিধা বেশী কিন্তু দাম কম চায়নার তুলনায়। আমরা সবচাইতে দামী ফাইবার গ্লাস ও ষ্টেনলেস ষ্টিল মেটেরিয়াল ব্যাবহার করে মেইন্টেনেস এর সুবিধা জনক করে মেশিন তৈরী করি যেটা চায়নার পিপি মেটেরিয়ালে সম্ভব না। কিন্তু ইউরোপের সাথে তুলনা করলে আমাদের সিসটেম অনেক কম হবে এটাই স্বাভাবিক।

দেশে অনেক বড় বিদেশি প্রজেক্ট হচ্ছে যাদের সাথে আমি জড়িত কিন্তু এখানে বিস্তারিত বলা যাবে না। শুধু এটুকু বলি  যে তারা আমাদের থেকে দশগুন বেশি টাকায় প্রজেক্ট করছে কারন বিদেশিরা এই প্রজেক্ট চালাবে এবং প্রজেক্ট এর বাজেট ৩০০ কোটি । এই প্রজেক্ট এর কিছু অংশ বিশেষ এর কাজ আমরা করবো আশাকরি।

সর্বশেষ যেটা বলবো যে, আপনারা যদি আপনাদের বাজেটের একটা ধারনা দেন তবে আমরা আপনার বাজেটের ভিতর আপনাকে সেরাটা দিতে পারবো কারণ মূল ডিজাইনের কাজটা আমরা নিজেরা করি। অন্য দিকে বিদেশি অন্যান্য কোম্পানী গুলি ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ার, বায়োলজিস্ট, কালচারিস্ট অন্য জায়গা থেকে হায়ার করে। তাই যোগাযোগ ও আলোচনায় একটা ফাঁক থেকে যায়।

এছাড়া আমাদের অসুবিধা গুলি মাথায় রেখে সেই অনুযায়ী প্রজেক্ট ডিজাইন করা উচিত। তা না হলে আমাদের ফিড, বিদ্যুত ও পোনা ব্যাবহার করে রাস প্রজেক্টে এ আপনি কখনোই সফল হতে পারবেন না। যদি না আপনার পরিচালনার খরচ কমিয়ে আনার উপায় না জেনে প্রজেক্ট ডিজাইন করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষপটে।

সৃষ্টিকর্তা ও আপনাদের আশির্বাদে তিনটি রাস সিসটেম প্রভাইডার (ইউরোপ ও চায়না) কোম্পানির সাথে তাদের প্রজেক্ট এর থ্রিডি ডিজাইনের কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই এই টেকনোলজির খুটিনাটি বিষয় গুলি তাদের কাছ থেকে আমি শিখেছি যা কোন বই পড়ে বা ইউটিউব দেখে শেখা যায় না। টেকনোলজি কেউ ফ্রিতে দেয় না। কাজের খাতিরে আমাকে তারা দিতে বাধ্য হয়েছে। আর সেই সাথে যুক্ত হয়েছে আমার উদ্ভাবনি ক্ষমতা ও দীর্ঘদিন WTP ও ETP নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা । এছাড়া ম্যাকানিক্যাল হেভি কন্সট্রাকশন ও পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজের অভিজ্ঞতা ভর করে দ্রুত এগোতে পেরেছি। কিন্তু আমরা আবার পিছিয়ে পরি আমাদের দেশের মানুষের বিদেশ প্রীতির কারনে।

প্রজেক্ট করার মূল নিয়ম হলো প্রভাইডারের কাছ থেকে একটা মোটামুটি ধারনা নেয়া। তারপর ডিজাইনের টাকা অগ্রিম প্রদান করে প্রজেক্ট এর ডিজাইন করা। ডিজাইন চলাকালীন আলাপ আলোচনা অব্যহত রাখা যাতে ডিজাইনার কি কি সুবিধা রাখবে এবং যিনি প্রজেক্ট করবেন সে কতটুকু কি চান সেটা আলচোনা করে ঠিক করা। ডিজাইন শেষ হবার পর কোন কোন ইকুইপমেন্ট কেমন কোয়লিটি সম্পন্ন হবে ও কোন ব্রেন্ডের হবে তার উপর নির্ভর করে প্রজেক্ট এর যাবতীয় মালামালের হিসাব করা। তারপর সাপ্লাই ও ইন্সটল করার যাবতীয় কাজের চুক্তি করে কাজ শুরু করা। তাতে উভয় পক্ষ নির্ভয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে ও প্রজেক্ট এর মান সঠিক হয়।

  • অভিজ্ঞতা শেয়ার (জে: মার্টিন অধিকারী)  
About The Author
cadsonbd Give me some metal I'll give you a productive machine.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!