বাংলাদেশে সফল আর এ এস কি ভাবে হবে?

বাংলাদেশে সফল আর এ এস কি ভাবে হবে?
February 29, 2020 No Comments Blog cadsonbd

আর এ এস পদ্ধতিতে সফল ভাবে বহু দেশে মাছ চাষ করে যাচ্ছে। কিন্তু কেন আমাদের দেশের পারছে না? কেন আমাদের দেশে হবে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে আমাদের এই পথ চলা।

সমস্যা গুলি কি কি?

১) বিদ্যুত খরচ। বাহিরের দেশে সরকার অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়, তার মধ্যে অর্ধেক বিদ্যুত বিল সরকার দেয়। আমাদের দেশে দেয় না। তাই বিদেশের ১০০ টন পানির কোন প্রজেক্ট গড়ে ১০ কিলোওয়াটের নিচে হয় না।

২) বিদেশের মেশিন কিনতে গেলে যেমন দাম তেমন আনার খরচ। আবার মেশিন কিনতে হলে আপনাকে আর এ এস এর সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং জানতে হবে। তা না হলে আপনি অর্ডার করতে পারবেন না। শুধু মেশিন এনে অনেকেই প্রজেক্ট করেছে সফল হতে পারে নি। কারণ হল তারা প্রজেক্ট এর ডিজাইন কেনেনি। সবচাইতে ছোট একটা প্রজেক্ট এর ডিজাইন করাতে ৫৫০০ ডলার লাগে।

৩) মেশিন কিনলেন ডিজাইন আনলেন। প্রজেক্ট সেটআপ করবে কে? বাহির থেকে এক্সপার্ট আনতে গেলে দিন প্রতি ২০০ ডলার গুনতে হবে। বিসনেস ক্লাসের যাতায়াত টিকেট ও হোটেল ভাড়া গুনতে হবে।

৪) অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করতে গেলে ফ্লোরেট, পানির সকল প্যারামিটার, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে হয় ভাল ভাবে। আর চায়নারাও এই প্রযুক্তি ততটা উন্নত করতে পারে নাই। তাই তারা অর্ধেক ফ্লোরেট দেয় বিদ্যুত খরচ কমানোর জন্য। এই খানেই হল ইঞ্জিনিয়ারিং যে, বেশী পানির ফ্লো করাবো কিন্তু বিদ্যুত বাচাঁবো কি ভাবে? বেশী পানি মানে বড় মটর আর বড় মটর মানে বেশী বিদ্যুত।

৫) তারপর হল বায়োফিল্টার। যে সকল মিডিয়া চায়নাতে পাওয়া যার তার সব মিডিয়ার হিসাবই ভুল। যেমন ধরুন একটি কে-ওয়ান মিডিয়া বলা আছে ৩০০০বর্গমিটার প্রতি কিউবিক মিটারে। কিন্তু আসলে আছে ১৪৫০ বর্গমিটার। এমন অনেক আছে লেখা ৮০০ কিন্তু আসলে তা ৫০০। শুধু একটি মিডিয়া পেয়েছি যেটা তারা বলেছে ১২০০ কিন্তু সেটা আসলে ১২৮০। একমাত্র জার্মানির মিডিয়া আছে ৫০০০ বর্গমিটার প্রতি কিউবিক মিটারে। এই মিডিয়াতে আছে আরো অনেক সমস্যা। কলনি ছাড়া মিডিয়ার হিসাব আর ঠিক থাকে না যখন ব্যাকটেরিয়ার কলনি ছিদ্র গুলি বন্ধ করে ফেলে। তাই কোন ড্রামের মধ্যে মিডিয়া দিয়ে বাতাস দিলেই হল না। দীর্ঘমেয়াদি কাজের জন্য এবং অটো ক্লিনিং এর জন্য এর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন রয়েছে।

৬) একটা প্রজেক্ট এ শুধু কে-ওয়ান মিডিয়া দিয়ে ফিল্টার করলেই হবে না। আরো অনেক মিডিয়া লাগে। কম পক্ষে ৫ প্রকার মিডিয়া লাগে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার জন্য। সেই সাথে কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস বের করার জন্য ট্রিকলিং ফিলটার লাগে।

৭) প্রটিনস্কিমার বায়োফিল্টারের জন্য যেমন অক্সিজেন সরবরাহ করে তেমনি বিভিন্ন মাইক্রো অর্গানিজম ধংস করে তাতে মাছের রোগ হতে পারে না। পানিতে ক্ষতিকারক কিছু থাকলে ওজন গ্যাস এর মাধ্যমে প্রটিনস্কিমার সেটা ধংস করা হয়।

৮) সবই হল এই সব ইকুইপমেন্ট গ্রাভিটি ফোর্সে যদি আপনার ১০০টন পানি ঘন্টায় আপনার টেংকে নিতে না পারে তাহলে সব শেষ। এর জন্য দরকার ডিজাইন, ফ্লো সিমুলেশন। শুধু তাইনা, যেকোন একটি যদি বন্ধ রাখতে হয় তবে যেন প্রজেক্ট চলে।

৯) টেংকে এই পানি গ্রাভিটি ফোর্সে যখন যাবে তাতে আপনার নজেল এর সাইজ কত হলে সঠিক স্পিড পাবেন সেটা জানতে হবে। বড় হলে পানি যাবে স্পিড হবে না। ছোট হলে পানি যাবেনা স্পিডও হবে না। এই সকল জটিল হিসাব অনেক ভাল ভাল ইঞ্জিনিয়ার ও করতে পারে না। যদি পানির পাইপ লাইনের ডিজাইনে অভিজ্ঞতা না থাকে। এ ছাড়া মাছের সাইজ অনুযায়ী পানির ষ্পিড দিতে হয় ছোট মাছকে বেশী স্পিড দিলে হার্টফেল করে মরে যাবে।

১০) ম্যাকানিকাল ফিল্টার বিদেশ থেকে এনে বসানো সহজ। কিন্তু যদি হিসাব করতে না পারেন যে আপনার দিন শেষে কত পানি অপচয় হচ্ছে? তাহলে টাইমার মোডে চালালে যেমন বিদ্যুত অপচয় হবে তেমন পানি।

এই সকল সমস্যার সমাধান করতে আমাদের তিনটি বছর লেগে গেল। এখন আমরা সফল ও বেশী লাভজনক যেকোন সাইজের প্রজেক্ট করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

আমাদের মাধ্যমে প্রজেক্ট করলে, না মাছের কখনো শ্বাস কষ্ট হবে, না এমোনিয়ার জন্য কষ্ট পাবে। বিন্দাস খাবে আর দৌড়াবে।

বলবেন গ্রোথ? এতকিছুর পর কি এ নিয়ে আর কোন চিন্তা করতে আছে? প্রতি মাসে মাছের তিনগুন ওজন বাড়ে যদি এই সব কিছু আর খাবার ঠিক থাকে।

ক্যাডসন সব সময় সেরাটািই দেবে। মাছে ভাতে বাংগালি। মাছের স্বাস্থ্য ভাল তো আমাদের স্বাস্থ্য ও ভাল।

ধন্য বাদ।

Cadson

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *